“পটুয়াখালীর বোতলবুনিয়ায় বিরল প্রজাতির শকুন পাখি এবং ৫টাকার চিড়িয়াখানা”


পিসি হেল্প সেন্টার (পটুয়াখালী বার্তাঃ) বিরল প্রজাতির একটি শকুন পাখি। একনজরে দেখতে ভিড় করছে সবাই। ভিড় সামলাতে পাখিটিকে রাখা হলো একটি পরিত্যাক্ত ঘরের মধ্যে। ব্যাস; শুরু হলো মানুষের জটলা। ঘরের এপাশ-ওপাশ দিয়ে উৎসুক জনতা হুমরী খাচ্ছে শকুন পাখিটিকে একনজরে দেখবার জন্য। মানুষের জটলা কমাতে এলাকার কয়েকজন যুবক জনপ্রতি ১০টাকা আদায় করে ওই ঘরে প্রবেশের ব্যবস্থা করে দিল। ৫টাকার বিনিময় আধাঘন্টা সময় নিয়ে ওই ঘরে বসে শকুন পাখি দেখছে সকলে। যাদের ৫টাকা নেই, তারা ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে বলছে, দেখে যা ‘শকুনের চিড়িয়াখানা’,  ‘৫টাকার চিড়িয়াখানা’।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের বোতলবুনিয়া বাজারের দৃশ্য এটি। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ দৃশ্য চলচিল সেখানে।
বিরল প্রজাতির এ শকুন পাখিটি দেখতে সেখানে হাজির হয়েছিল শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই।
বোতলবুনিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ ইমরান হোসেন জুয়েল মৃধা জানান, ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে। গ্রামের বিলজালা এলাকার মৃধা বাড়ীর একটি বড় চাম্বল গাছে আচমকা ৮টি বড় ধরনের শকুন পাখি দেখে শিশু সাকিল ভয় পায়। চিৎকার করে মা নিরু বেগমকে ডাক দেয় সাকিল। নিরু বেগমও পাখিগুলো দেখে আতলে উঠেন। পরে তিনি ডাকেন ওই বাড়ীর গৃহবধু রেশমা, নাজমাকে। মুহূর্তের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পরে গোটা ইউনিয়নে। পাখি দেখতে ভিড় পড়ে ওই বাড়ীতে। এরমধ্যে সন্ধ্যার কিছু আগ মুহূর্তে ওই গাছের একটি ডাল ভেঙ্গে একটি পাখি পুকুরে পড়ে যায়।
ইমরান আরো জানান, পুকুরে জাল ফেলে পাখিটিকে উদ্ধার করা হয়। এরপর এলাকার কতিপয় যুবক ইলিয়াছ, কবির, ইমরান, সুমন শিকদার, জুয়েলসহ আরো অনেকে পর্যায়ক্রমে ওই ঘরে আটকে রাখে পাখিটিকে। ঠান্ডায় পাখিটির জবুথবু অবস্থা দেখে ওই যুবকরা ২টি বয়লার মুরগি ক্রয় করে শকুনটিকে খেতে দেয়। এরমধ্যে ইউনিয়ন ছেড়ে খবর ছড়িয়ে পরে শহরে। ছুটে যায় প্রশাসনের লোকজন।
ওই গ্রামের বৃদ্ধ ফোরকান মৃধা জানান, পাকিস্তান আমলে এ জাতীয় শকুন সচরাচর দেখা যেত। তারপর হঠাৎ বিলুপ্তপ্রায় শকুন পাখি আর দেখেনি। বড় শকুন পাখির খবর শুনে তিনিও এসেছিলেন পাখিটিকে একনজরে দেখতে।
তিনি জানান, আগে শকুন পাখি আসতো এলাকায় শালিস ব্যবস্থা ভাল থাকলে। অনেকে মনে করতো, শকুন পাখি আসছে এলাকায় এখন আর শালিস ব্যবস্থার কোন সমস্যা হবেনা। কিন্তু এত বছর পর কেন এতবড় শকুন পাখি এই এলাকায় আসলো তা তিনি বলতে পারছেননা।
৭৮বছর বয়সের বৃদ্ধ আঃ হামিদ তালুকদার জানান, সর্বশেষ ৮০’র দশকে এ জাতীয় শকুন তিনি দেখেছেন। তারপর এই আবার দেখা হলো। তারধারনা, এলাকার কোন ভাল সংবাদ বয়ে নিয়ে আসছে এ পাখিগুলো।
শকুন পাখি দেখতে আসা বোতলবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী নাদিয়া সুলতানা জানান, দাদীর কাছে শকুন পাখির কথা শুনছি। কিন্ত এত্তবড় পাখি। বা-বা। আমি ভয় পাইয়া গেছি।
পটুয়াখালী সরকারি কলেজের প্রানী বিদ্যা বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক  পিযুষ কান্তি হরি জানান, শকুন পাখি আমাদের দেশের দুর্লভ প্রানী। একে গিন্নী শকুন অথবা রাজ শকুন বলা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম ঞজঙএঙঝ ঈধষাঁং।
তিনি আরো জানান, মৃতভোজী প্রানী এই শকুনের খাদ্য সংকট ও আবাস সংকটে দেখা দেওয়ায়  ৭১’র পর থেকে এরা কমতে শুরু করে। পার্শ¦বর্তী ভারতে এর উপস্থিত আছে। মাঝে মধ্যে এ দেশে হঠাৎ খাদ্যের সন্ধানে দলবেধে আসতে দেখা যায়।
মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী জয়নাল আবেদিন জানান, নতুন চেয়ারম্যান হিসাবে নতুন পাখির আগমন এটাকে আমি ভাল হিসাবেই দেখছি।
বিভাগীয় বনকর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র রায় জানান, এটি বিরল জাতীয় শকুন পাখি। একসময় উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের পাখির সচরাচর যাতায়াত ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পাখিগুলো বিলুপ্তপ্রায় এছাড়া পথভ্রষ্ট হয়ে পাখিটি এখানে আসতে পারে বলে তার ধারনা।
তিনি আরো জানান, শনিবার সকালে পাখিটিকে অবমুক্ত করা হয়েছে।
সদর উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা বাদল হালদার জানান, শকুন পাখি বন্যপাখি হিসাবেই চিহ্নিত। সচরাচর এগুলো চোখে পরেনা। তবে পাখিটির যে অবস্থা তাতে মনে হয় এটি পথভ্রস্ট হয়ে অন্য স্থান থেকে এখানে এসেছে।

About মোঃ আবুল বাশার

আমি একজন ছাত্র,আমি লেখাপড়ার মাঝে মাঝে একটা ছোট্ট প্রত্রিকা অফিসে কম্পিউটার অপরেটর হিসাবে কাজ করে,নিজের হাত খরচ চালানোর চেষ্টা করি, আমি চাই ডিজিটাল বাংলাদেশ হলে এবং তাতে সেই সময়ের সাথে যেন আমিও কিছু শিখতে পারি। আপনারা সকলে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরার চেষ্টা করি এবং অন্যকেও ৫ওয়াক্ত নামাজ পরার পরামর্শ দিন। আমার পোষ্ট গুলো গুরে দেখার জন্য ধন্যবাদ, ভাল লাগেলে কমেন্ট করুন। মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে,ভুল ত্রুটি,হাসি,কান্না,দু:খ,সুখ,এসব নিয়েই মানুষের জীবন। ভুলে ভড়া জীবনে ভুল হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়,ভুল ত্রুটি ক্ষামার দৃর্ষ্টিতে দেখবেন। আবার আসবেন।

Posted on 31/12/2011, in News. Bookmark the permalink. এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান.

পোষ্টটি আপনার কেমন লেগেছে? মন্তব্য করে জানান।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s