বাঙালি,বঙ্গবন্ধুর ঋণ শোধ কর (শিখা ব্যানার্জী)


মার্চ মাস, বাঙালির জীবনে একটি অগ্নিঝরা মাস।ত্যাগের মহিমায়, বীরত্বের উজ্জ্বলতায়, স্বাধীনতার তীব্র আকাঙ্খায় ভাস্বর এই মাস।এই মাসেই জন্ম নিয়েছিলেন টুঙ্গীপাড়ার ছায়া-সুশীতল মায়ের কোলে, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর এই মাসেই পশ্চিমা হায়েনারা একটু একটু করে পৈশাচিক খেলার মহড়া শুরু করেছিল। বঙ্গবন্ধুকে নানাভাবে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছিল,ফাঁসাতে চেয়েছিল তাঁকে বিচ্ছিন্নতাবাদী একজন নেতা হিসেবে কলংকিত করে।কিন্তু কোন দুরভিসন্ধিই বাঙালির মন থেকে বঙ্গবন্ধুকে সরাতে পারেনি, কোনওদিন পারবেওনা। কারন,বঙ্গবন্ধু সেই ছোটবেলা থেকেই এদেশের মাটি ও মানুষকে হৃদয় উজাড় করে ভালবেসেছিলেন। তাইতোছোট বয়সেই তাঁর আশেপাশে গরীব -দু:খীদের দেখলে তাঁর প্রাণ কেঁদে উঠত।কাউকে দিয়ে দিতেন নিজের গায়ের জামা,কাউকে ঘর থেকে চাল বের করে দিয়ে আসতেন।আবার কোথাও অন্যায় দেখলে তাৎক্ষণিক তার প্রতিবাদে সোচ্চার হতেন।অর্থাৎ নের্তৃত্ব দেবার সমস্ত গুণাবলীই ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে ফুটে উঠেছিল।যার কারনে প্রতিটি বাঙালি তাঁকে সাদরে বরন করে নিয়েছিল, স্থান দিয়েছিল হৃদয়ের মণিকোঠায়, আর তিনি হয়েছিলেন সাড়ে-সাতকোটি বাঙালির বঙ্গবন্ধু।বঙ্গবন্ধুও বাঙালির অন্তরের অন্ত:স্থল থেকে উঠে আসা সেই ভালবাসার অমর্যাদা কোনদিন করেননি।
যখন পাক-কুচক্রীরাঅধিবেশন নিয়ে টাল-বাহানা করছিল, বঙ্গবন্ধুর দূরদৃষ্টির কাছে ওদের ছল-চাতুরী স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।তাই কাল-বিলম্ব না করে ২ও ৩ মার্চ হরতাল আহবান করেছিলেন। সে হরতালে আপামর বাঙালির স্বত:স্ফ’র্ত সাড়া মিলেছিল। বঙ্গবন্ধুও বুঝে গিয়েছিলেন পাকেদের আসন টলেছে, জনগণও দেখল পশ্চিমা শাসক-গোষ্ঠীর হিংস্ররূপ। ইয়াহিয়ার ঘোষণায় ৩ মার্চ অধিবেশন মুলতবী হওয়ার সাথে সাথে বাঙালিরা ক্ষোভে ফেটে পড়ল। বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলন ও হরতালের ডাক দিলেন৬ মার্চ পর্যন্ত।আর বলেছিলেন ৭মার্চ জানিয়ে দেবেন পরবর্তী করনীয় কি কি হতে পারে।বাঙালিরা অধীর আগ্রহে সেই দিনটির জন্য প্রতিক্ষা করতে লাগল। সাথে সাথে পশ্চিমাদের ছল-চাতুরী ও হিংস্রতারও প্রতিবাদ জানাতে লাগল হরতালের মাধ্যমে। হরতাল মানুষের গনতান্ত্রিক অধিকার, যে কোন মানুষই তার দাবি আদায়ে হরতাল করতে পারে, কিন্তু পশ্চিমা শাসক-গোষ্ঠী গনতান্ত্রিক ছিলনা, ছিল স্বৈরতন্ত্রী, ছিল সামরিক কায়দায় দমন=পীড়নের অভিলাষী,তাই ২ মার্চ পাকিস্তনি সেনাবাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান ২জন বাঙালি। এটা ছিল পাকেদের বাঙালি শায়েস্তার ট্রায়াল, ভেবেছিল হয়তো ভেতো বাঙালি ভয় পেয়ে গর্তে লুকাবে।কিন্তু ফল হল উল্টো।আগুন আরও তীব্র আকার ধারন করল,সারাদেশ জুড়ে প্রতিবাদের মিছিল বের হয়ে আসতে লাগল, ফলে অকালে ঝরে যেতে লাগল তরতাজা প্রাণগুলো, যেমন ৪মার্চ খুলনায় ৬জন, চট্টগ্রামে ১২০জন,৫মার্চ টঙ্গীতে ৫জন, খুলনা ও রাজশাহীতে যথাক্রমে ২জন ও ১জন নিহত হয়। ৬মার্চ ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পলায়ন কালে ৭জন নিহত হয়।যতই পাক সেনা বাহিনীর অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকে,পূর্ব-পাকিস্তানের আপামর জনগণ ততই বিক্ষুব্ধ হতে তাকে। তথাপি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। আর্থাৎ কোথাও তারা লাশের বদলে লাশ ফেলে দেবার চেষ্টাটুকুও করেনি। শান্তিপুর্ণ হরতালের মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছে।আর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে কি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবেন , তিনি কি স্বাধীনতারঘোষনা দেবেন, ঝাঁপিয়ে পড়তে বলবেন পাক-নিধনে, নাকি কোন সমঝোতার পথে হাঁটতে বলবেন।সাড়ে-সাতকোটি বাঙালি ভেবে ভেবেও কোন কুল-কিনারা করতে পারেনি বঙ্গবন্ধু তাদের কোনআশার বাণী শোনাবেন। আওয়ামী নেতারা বঙ্গবন্ধুর সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা বৈঠক করেও স্থির কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।বাসায় এলেন বঙ্গবন্ধু,সারারাত নির্ঘুম কাটিয়েছেন সেদিন, ছটফট করেছেন, পরদিন কি বলবেন, কি বললে অহেতুক রক্তপাত বন্ধ হবে, আবার নিপীড়িত –নিষ্পেষিত বাঙালি ফিরে পাবে তাদের ন্যায্য অধিকার। সে এক সুকঠিন পরীক্ষা ছিল সেদিন। বেগম মুজিব প্রেরণার প্রদীপ হয়ে পাশে এসে দাঁড়ালেন, লক্ষ্য করলেন তাঁর অস্থিরতা, শান্ত কণ্ঠে বললেন,“তুমি যা বিশ্বাস করো, তাই বলবে।” ব্যস, স্থির হয়ে গেল কর্মপন্থা। সত্যিই তাঁর মনের মনিকোঠায় স্থান পাওয়া বাঙালির প্রতি মমত্ববোধের কথা মনে পড়ে গেল।মনে পড়ল,সাড়ে-=সাতকোটি বাঙালি তো তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে, তাই সেই বিশ্বাস, সেই নির্ভরতা, তাঁর বিশাল হৃদয়কে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেল যে, তিনি মনস্থির করে ফেললেন,৭মার্চ জনগণকে কোন্ নিশানা দেখাবেন।তারপর এল সেই ঐতিহাসিক ৭মার্চ,এক মাহেন্দ্রক্ষণ বাঙালির জীবনে। সভার সময় ছিল অপরা‎ে‎‎হ্ন, কিন্তু জনতার যেন আর তর সইছিলনা, সকাল থেকেই জমায়েত হচ্ছিল রেসকোর্স ময়দানে। যে ময়দান নিজেও জানতে পারেনি কি ঘটতে যাচ্ছে আজ তার অঙ্গনে, অবশেষে ১৯৭১-এর ৭ মার্চ অপরা‎‎হ্ন ৩টা ১৫ মিনিটে বাঙালির প্রাণপ্রিয় নেতা ধীর পায়ে মঞ্চে এসে দাঁড়ালেন, পরনে চিরাচরিত সেই পোশাক, সাদা পাজামা ও পাঞ্জাবী ও মুজিবকোট। রেসকোর্স ময়দানে সেদিন তিল-ধারনের ঠাঁই ছিলনা, অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল লাখ লাখ জনতা, কে না ছিল সেই ময়দানে? উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত,পূর্ব-পাকিস্তানের সমস্ত বাঙালি সত্তা যেন সেখানে মিলে-মিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু মঞ্চে এসে দাঁড়াতেই “জয়-বাংলা” ধ্বণিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠল।বঙ্গবন্ধু দেখলেন, শুনলেন, উপলব্ধি করলেন, স্পর্শ পেলেন বাঙালির হৃদয় উজার করা ভালবাসার। সেই উপলব্ধিরই পূর্ণ প্রকাশ ঘটেছিল সেদিন তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। ক্ষমতার মোহজাল তাঁর চারপাশেও বিস্তৃত ছিল, ইচ্ছে করলে পশ্চিমাদের মত বাঙালিদের পদানত করে তিনিও স্বৈরশাসক হয়ে জীবন কাটিয়ে দিতে পারতেন।কিন্তু তিনি মোহগ্রস্ত হননি, পশ্চিমাদের লোলুপতার ফাঁদে তিনি পা দেননি, তিনি পাশে এসে দাঁড়ালেন নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের , তাদের জন্যই তিনি নিজেকে উৎসর্গ করলেন, অর্থাৎ নিষ্কাম কর্মকেই পাথেয় করে নিলেণ। একাজ সহজসাধ্য নয়,সমুদ্রের মত বিশাল ও উদার হৃদয় ছিল বলেই তিনি সমস্ত মোহ ত্যাগ করতে পেরেছিলেন।তার মনোজগতে ছিল তাঁর মাতৃভূমি ও বঞ্চিত বাঙালি। তাই তিনি সেদিন প্রথমেই পাক-শাসক গোষ্ঠীকে নিরীহ বাঙালি হত্যার অপরাধে কাঠ-গড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন, আবার শোধরাবার সুযোগও দিয়েছিলেন । যদি তারা আবারও বাঙালি নিধনে মেতে ওঠে, তাহলে বাঙালিকে রুখে দাঁড়াবার নির্দেশও দিলেন। তাও সন্মুখ-সমরে নয়, গেরিলা কায়দায়। কি চমৎকার দিক-নির্দেশনা!কথার মারপ্যাচে আক্ষরিক ভাবে স্বাধীনতার ঘোষনা তিনি দেননি ঠিকই, কিন্তু বাঙালিরা বুঝে গিয়েছিল পরবর্তীতে তাদের করনীয় কি। তাই পাকেরা যখন অধিবেশনের নামে সময় নষ্ট করছিল, আর পশ্চিম পাকিস্তান থেকে অস্ত্র ও সৈন্য এনে জড় করছিল, বাঙালিরাও কিন্তু বসেছিলনা, মানসিক প্রস্তুি ততো আগেই ছিল, প্রতিরোধেরও মহড়া শুরু করেদিল। বঙ্গবন্ধু বুঝেগিয়েছিলেন তাঁকে গ্রেফতার করবেই , তাই তিনিও সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্নকরে গিয়েছিলেন।স্বাধীনতার ঘোষনা-পত্র লিখে ইপিআর ওয়ারলেস মারফত আওয়ামী লীগ নেতা জনাব জহুরুল হকের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ২৬ মার্চ রাতে এবং চট্টগ্রাম কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচার করার নির্দেশ তিনি বন্দী হবার পূর্বে দিয়ে গিয়েছিলেন। পরের দিন ২৭ মার্চ কৌশলগত কারনে তখন চট্টগ্রামের ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার তৎকালীনমেজর জিয়ায়ুর রহমানকে দিয়ে ঘোষনাপত্রটি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে পুনরায় পাঠ করানো হয়।অথচ আজও এই ঘোষনাপত্রটি নিয়ে টানাহ্যাঁচরা চলছে বাঙালিদেরই মধ্যে।জানিনা কবে এর সুষ্ঠু সমাধান হবে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি ঢাকার লেকসার্কাস কলাবাগান গার্লস হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। আমি দেখেছি যুদ্ধ শুরু হবার সাথে সাথে স্কুলের মাঠে সমর্থবান পুরুষ ও যুবকেরা কিভাবে সারারাত প্যারেট করেছে। কখনও নৌকায়, কখনও পায়ে হেঁটে যশোর হয়ে ভারত যাবার সময় দেখেছি শতশত জনমানবশূন্য ঘর-বাড়ি,কোনটা ভাঙাচোরা,আগুনে পুড়ে গেছে,কেউ কেউ এই সুযোগে সমস্ত মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের দেখেছি রাতের অন্ধকারে এসব বাড়ি-ঘরে আশ্রয় নিতে। বাবা-কাকা ওঅন্যান্য বয়ষ্কদের দেখেছি রেডিওর সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে কান পেতে শুনছে ৭মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ, শুনেছে ২৬মার্চের যুদ্ধ ঘোষণা।শুনেছে রক্তে আগুন ধরানো স্বাধীন বাংলা বেতারের গানগুলো। এই ৯মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে একবারও মনে হয়নি বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই, বরঞ্চ পুরো ৯মাসই তিনি মুক্তিযোদ্ধাসহ সমস্ত বাঙালিদের প্রেরণার উৎস ছিলেন।বঙ্গবন্ধু প্রমাণ করে দিয়েছেন, সত্যের পক্ষে যখন শুভশক্তির মহা-সম্মিলন ঘটে, তখন অপশক্তির সাধ্য কি তা প্রতিরোধ করে।তাই কোন অশুভ শক্তিই বাঙালির মুক্তির অধিকার ছিনিয়ে নিতে পারেনি।ন্যাক্কারজনক ভাবে পাকেরা কিছু বাঙালিকে দালাল ও দেশদ্রোহী তৈরি করতে পেরেছিল, যারা বাঙালি হয়ে বাঙালির বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে,মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দিয়েছে,ঘর-বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে, লুটপাট করেছে, এমনকি ঐ নির্ল্লজ্জেরা মা-বোনদের পশ্চিমা-নরপিশাচদের হাতে তুলে দিতেও দ্বিধা করেনি। যশোরে এক ঝিল পেরোনোর সময় আমি স্বচক্ষে ঐ রাজাকারদের আমাদের পেছনে অস্ত্র নিয়ে পজিশন নিতে দেখেছি। প্রচন্ড ঘৃণা জেগেছিল সেদিন আমার মনেও।
এখন ভাবি বাঙালি কি করে ভুলে যায় তাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন? কি করে ভুলে যায় বঙ্গবন্ধুর অবদান? তিনি যে কি মহান প্রাজ্ঞতায় ৭মার্চ এক ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে দেশকে মুক্তির পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন,আলজেরিয়া বা ভিয়েতনামের মত সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হবার হঠকারিতা দেখাননি। কি করে ভোলে বাঙালি যে পুরো ৯মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্তর্নিহিত প্রেরণা ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান? কি করে ভোলে?
এখন আবার বিচার না হওয়া সেই অপরাধী রাজাকার-আলবদরেরা ও তাদের দরদীরা মাথা চারা দিয়ে উঠেছে। তাদের রোপিত বিষ-বৃক্ষ ডাল-পালা ছড়িয়ে মহীরুহে পরিনত হয়েছে। তাই তারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি করার ধৃষ্টতা দেখায়।এমনকি মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও ব্যাঙ্গোক্তি করে তারা। ধিক মীরজাফরের দল, আস্তাকুড়ে যেন ঠাঁই হয় ওদের।স্বাধীনতা পেয়েছি আমরা ৪০ বছর হয়ে গেল, এখনও অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি অর্জিত হয়নি। বঙ্গবন্ধু যে মুক্তির জন্য লড়াই করেছিলেন। স্বাধীনতা মানে যে শুধু ১টি ভূ-খন্ড শত্রুমুক্ত করা নয়, এটি তিনি বাঙালিকে পদে পদে বুঝাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাঙালিদের মধ্যে ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ-লালসা দেখে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছিলেন।তাই আর একবার যুবসমাজকে রুখে দাঁড়াতে বলেছিলেন যত ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে, যাতে দেশটি দুর্নীতিমুক্ত হয়ে উন্নয়নের দিকে ধাবিত হয়। খেটে খাওয়া মানু ষের যেন ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। কিন্তু আমরা এমনই অকৃতজ্ঞ জাতি যে তাঁকে সে সুযোগটাও দিলামনা, সপরিবারে তাঁতে হত্যা করে নিজেদেরই কলংকিত করলাম।
আজ ঋণ শোধের পালা, এই মার্চমাসে আমরা অনেক পেয়েছি, পেয়েছি ক্ষণজন্মা এক মহান রাষ্ট্র-নায়ককে, যিনি দেশ স্বাধীন করে তাঁর জন্মঋণ শোধ করে গেছেন।আর আমাদের করে গেছেন চিরঋণী। আমরা কি পেরেছি আজও তাঁর ঋণ শোধ করতে?না পারিনি, বরং লক্ষ্য-ভ্রষ্ট হয়েছি। বঙ্গবন্ধু নামের কাঙাল ছিলেন না, বিভিন্ন স্থাপনায় তাঁর নাম লেখালেই তাঁর ঋণ শোধ হয়না বরং তাঁকে কিছুটা খাটো করা হয় বলেই আমার মনে হয়।তাই বলছি, বাঙালি , আবার জেগে ওঠো, কান পেতে শোনোÍবঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মা আর্তনাদ করছে। এই দেশ তিনি চাননি, রবীন্দ্রনাথের সোনার বাংলা, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কে বুকে ধারন করতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ-লালসা বিসর্জন দিতে হবে। দেশের মানুষকে তাঁর মত ভালবাসতে হবে।দুর্নীতির কালো ছায়া পুরো দেশটাকে যেন গ্রাস করে ফেলেছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে সমস্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে,দমন করতে হবে যেকোন অপশক্তি। উৎপাদনশীলতার মাধ্যমে দরিদ্রজনগোষ্ঠীর ভাগ্য বদলে দিতে হবে।ঘোচাতে হবে ধনী-দরিদ্রের পাহাড়সমান বৈষম্য, গড়ে তুলতে হবে ক্ষুধা-দরিদ্র-মুক্ত এক অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ—তাহলেই বাঙালির যত ঋণ বঙ্গবন্ধুর কাছে—সবশোধ হবে। (লেখক ঃ প্রভাষক,প্রাণিবিদ্যা, বাউফল কলেজ, বাউফল,পটুয়াখালী)।

Advertisements

About মোঃ আবুল বাশার

আমি একজন ছাত্র,আমি লেখাপড়ার মাঝে মাঝে একটা ছোট্ট প্রত্রিকা অফিসে কম্পিউটার অপরেটর হিসাবে কাজ করে,নিজের হাত খরচ চালানোর চেষ্টা করি, আমি চাই ডিজিটাল বাংলাদেশ হলে এবং তাতে সেই সময়ের সাথে যেন আমিও কিছু শিখতে পারি। আপনারা সকলে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরার চেষ্টা করি এবং অন্যকেও ৫ওয়াক্ত নামাজ পরার পরামর্শ দিন। আমার পোষ্ট গুলো গুরে দেখার জন্য ধন্যবাদ, ভাল লাগেলে কমেন্ট করুন। মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে,ভুল ত্রুটি,হাসি,কান্না,দু:খ,সুখ,এসব নিয়েই মানুষের জীবন। ভুলে ভড়া জীবনে ভুল হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়,ভুল ত্রুটি ক্ষামার দৃর্ষ্টিতে দেখবেন। আবার আসবেন।

Posted on 24/03/2012, in News and tagged , , . Bookmark the permalink. এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান.

পোষ্টটি আপনার কেমন লেগেছে? মন্তব্য করে জানান।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: