মোবাইল ফোনের বিকিরণ


এফএনএস ॥ সব ধরনের মোবাইল ফোনেই তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ ব্যবহৃত হয়। এই বিকিরণগুলো হয়ে থাকে মাইক্রোওয়েভ ধরনের। এগুলোকে বলা হয় ‘নন-আয়নাইজং রেডিয়েশন’। এই বিকিরণ এক্সরের বিকিরণের মতো নয়, বরং কম ক্ষমতার মাইক্রোওয়েভ ওভেনের বিকিরণের মতন। মোবাইল ফোন থেকে নির্গত বিকিরণের একটি অংশ শোষিত হয় মানব মস্তিষ্কে। সাধারণত জিএসএম হ্যান্ডসেটগুলোর সর্বোচ্চ বেতার তরঙ্গের ক্ষমতা ২ ওয়াাট। সিডিএমএ সেটগুলোর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ গড়ে ১ ওয়াট। মোবাইলের এই বিকিরণের একটি প্রভাব হচ্ছে তাপীয়। এর মাধ্যমে যেকোনো ডাই ইলেকট্রিক বস্তু (যেমন, জীবন্ত মানব টিস্যু) উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় সেটটি সাধারণত কানের নিকটবর্তী মস্তিষ্কের অংশের সাথে সংযুক্ত থাকে। মস্তিষ্কের সেই অংশের কোষ বা টিস্যুগুলোর উপর তখন এই বিকিরণের প্রভাব পড়ে।
এই প্রভাব সম্পর্কে লস অ্যাঞ্জেলস এর সিডারস সিনাই মেডিকেল সেন্টারের নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কেইথ ব্ল্যাক বলেন, ‘মাইক্রোওয়েভ ওভেনে যেমনটি ঘটে থাকে, মোবাইলের বিকিরণেও আমাদের মস্তিষ্কে ঠিক একই রকম প্রভাব পড়ে। তাই ক্যান্সার বা টিউমারের ঝুঁকি ছাড়াও স্মরণশক্তিতে এটি নেতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে। কেননা, যেখানে আমরা মোবাইল ধরে রাখি, মেমোরি টেমেপোরাল লোব ঠিক সেই স্থানেই অবস্থিত’। তিনি আরো জানান, ‘পরিবেশের এসব নানান উপাদানের প্রভাব ঠিক অল্প সময়ে বোঝা যায় না। অনেক বিষয়ের সঠিক ফলাফল পেতে কয়েক দশক অপেক্ষা করতে হয়। এ বিষয়টিও ঠিক তেমনই’।
আরো গবেষণা প্রয়োজন
মোবাইলের বিকিরণ নিয়ে গবেষণা এই প্রথম নয়। বরং গত কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন দেশে বিজ্ঞানী, গবেষক এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চলে আসছে গবেষণা। ২০১০ সালের এরকম একটি গবেষণাতেও দেখানো হয়- যারা ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন, তাদের মধ্যে ব্রেইন গ্লিওমায় আক্রান্ত হওয়ার হার অন্যদের তুলনায় দ্বিগুণ। অন্যান্য গবেষণাতেও প্রায় একই ধরনের ফলাফল পাওয়া যায়। এগুলোর কোনোটিতেই ক্যান্সারের কারণ হিসেবে মোবাইলের প্রত্যক্ষ ভূমিকার কথা না থাকলেও সতর্কতার বিষয়টিতে জোর দেয়া হয়েছে। ঠিক এমনই একজন গবেষক ড. হেনরি লাই। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের বায়োইঞ্জিনিয়ারিং এর এই গবেষক অধ্যাপক ৩০ বছর ধরে তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে গবেষণা করে আসছেন। তিনি জানান, ‘ক্যান্সার, বিশেষত ব্রেইন ক্যান্সারের সূচনা থেকে পূর্ণাঙ্গতা পাওয়া একটি সুদীর্ঘ প্রক্রিয়া। আর মোবাইল ফোনের বিকিরণের সাথে এর সম্পর্ক নির্ণয়েও আরও সময় প্রয়োজন। তবে সেই সম্পর্ক পূর্ণাঙ্গভাবে নিরুপিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সকলের জন্য সতর্কবাণী প্রদান করা উচিত’।
প্রযুক্তি বিশ্বের প্রতিক্রিয়া
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই প্রতিবেদনে প্রযুক্তি বিশ্ব সাড়া দিয়েছে মিশ্র ভাবেই। প্রযুক্তির সংগঠন সিটিআইন জানিয়েছেন, ‘স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনের অর্থ এই নয় যে, মোবাইল ফোন-ই ক্যান্সারের কারণ আর এর পেছনে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণও নেই।’ তবে মোবাইলের বিকিরণের বিষয়ে পূর্বে থেকেই হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো সচেতন এবং তারা তাদের হ্যান্ডসেটগুলোর সাথে এ সংক্রান্ত সতর্কবার্তাও প্রদান করে আসছে আগে থেকেই। যেমন টেক জায়ান্ট আইফোন ৪ এর সতর্কতা অংশে বলা আছে। ‘ভয়েস কল বা তারবিহীন যে কোনো মাধ্যমে তথ্য স্থানন্তরের সময় আইফোনকে শরীর থেকে ১৫ মিলিমিটার দূরত্বে রাখুন।’ একইভাবে আর ব্ল্যাকবেরী সেটগুলোর ক্ষেত্রেও যে কোনো ধরনের তথ্য স্থানান্তরের সময় ব্যবহারকারীদের শরীর থেকে ২৫ মিলিমিটার দূরত্বে সেট রাখতে বলা হয়েছে। শরীর থেকে দূরে রাখলে সেট থেকে নির্গত বিকিরণ শরীরে পৌঁছানোর মত শক্তি রাখে না বলেই এ ধরনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
মোবাইল ব্যবহারের সতর্কতা- স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত এ গবেষণা প্রতিবেদনের পর স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষদের মধ্যে কাজ করছে নেতিবাচক মনোভাব। তবে তাদের আশস্ত করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। সাধারণভাবে মোবাইল ব্যবহারের জন্য কিছু সতর্কতার কথাও তারা উল্লেখ করেছে। এসব সতর্কতার মধ্যে রয়েছে। হেডসেট ব্যবহার যাতে মোবাইল ফোন যথাসম্ভব দূরে রাখা যায় শরীর থেকে। কথা বলার চেয়ে এসএমএস বেশি বেশি ব্যবহার করা। সবসময় ফোন চালু না রাখা। মোবাইলের ব্যাটারির চার্জ কম থাকলে বিকিরণ বেশি হয়। তাই সবময় ব্যাটারির চার্জ নিশ্চিত রাখা। শিশুদের মোবাইল ব্যবহার না করতে দেয়া।

Advertisements

About মোঃ আবুল বাশার

আমি একজন ছাত্র,আমি লেখাপড়ার মাঝে মাঝে একটা ছোট্ট প্রত্রিকা অফিসে কম্পিউটার অপরেটর হিসাবে কাজ করে,নিজের হাত খরচ চালানোর চেষ্টা করি, আমি চাই ডিজিটাল বাংলাদেশ হলে এবং তাতে সেই সময়ের সাথে যেন আমিও কিছু শিখতে পারি। আপনারা সকলে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরার চেষ্টা করি এবং অন্যকেও ৫ওয়াক্ত নামাজ পরার পরামর্শ দিন। আমার পোষ্ট গুলো গুরে দেখার জন্য ধন্যবাদ, ভাল লাগেলে কমেন্ট করুন। মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে,ভুল ত্রুটি,হাসি,কান্না,দু:খ,সুখ,এসব নিয়েই মানুষের জীবন। ভুলে ভড়া জীবনে ভুল হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়,ভুল ত্রুটি ক্ষামার দৃর্ষ্টিতে দেখবেন। আবার আসবেন।

Posted on 07/06/2012, in Mobile, News and tagged . Bookmark the permalink. এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান.

পোষ্টটি আপনার কেমন লেগেছে? মন্তব্য করে জানান।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: